প্রকাশিত : সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , রাত ০৮:৩৬।। প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , রাত ১২:১৭
রিপোর্টার : ইনভেস্টর ডেস্ক

শুটিং ফেডারেশনে গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ; নতুন নেতৃত্বের বক্তব্যে উঠে এলো ভিন্ন চিত্র


রিপোর্টার : the investor

জাতীয় শুটিং ফেডারেশনের গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে এসব অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কাল, কমিটির কাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি।

ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মাধ্যমে গঠিত একটি অ্যাডহক কমিটি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও দুই মাস পূর্ণ হয়নি। কমিটির সদস্যদের একটি বড় অংশই নতুন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা কমিটিতে রয়েছেন। ফেডারেশনের দাবি, কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয় না; বোর্ডে আলোচনা ও সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই ফেডারেশনে থাকা সব গোলাবারুদ গণনা করে সিলগালা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বর্তমান কমিটি। তাদের ভাষ্য, অতীতের কোনো অনিয়মের দায় বর্তমান অ্যাডহক কমিটির ওপর বর্তায় না। তবে আগের সময়ের গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক—এমন অবস্থানেই রয়েছে বর্তমান নেতৃত্ব।

উপকমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন, সময়ক্রমে কী বলছে ফেডারেশন

সাম্প্রতিক অভিযোগের একটি বড় অংশ হলো, গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বিভিন্ন উপকমিটিতে যুক্ত করে তাঁদের ‘পুনর্বাসন’ করা হয়েছে।

তবে বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, এই অভিযোগের ভিত্তি মূলত সময়ক্রমের ভুল ব্যাখ্যা। ফেডারেশনের বিভিন্ন উপকমিটি বোর্ডের সিদ্ধান্তে [তারিখ] গঠন করা হয়। তাদের দাবি, গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর আগেই এসব উপকমিটি গঠন করা হয়েছিল।

ফলে তদন্ত শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপকমিটিতে যুক্ত করার যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করছে ফেডারেশন। তাদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তিকে ‘পুনর্বাসন’ করার প্রশ্ন তখনই আসে, যখন তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শুরুর আগের সাংগঠনিক পদায়নকে সেই অর্থে পুনর্বাসন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

উপকমিটির সদস্য হলেই কি গোলাবারুদের হিসাবের দায়িত্ব?

আরেকটি অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে কয়েকজন উপকমিটি সদস্যের ক্লাব-সংশ্লিষ্টতা। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্লাবের গোলাবারুদের হিসাব নিয়ে গরমিলের প্রশ্ন উঠেছে। সেখান থেকে তাঁদের উপকমিটিতে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ফেডারেশনের বর্তমান নেতৃত্ব বলছে, এখানে দুটি পৃথক সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বকে এক করে দেখা হচ্ছে।

তাদের মতে, কোনো ক্লাবের গোলাবারুদ উত্তোলন, ব্যবহার ও মজুদের হিসাব সংরক্ষণের প্রাথমিক দায়িত্ব ক্লাব প্রশাসনের। জেলা পর্যায়ে হিসাব যাচাই ও অনুমোদনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অন্যদিকে, ফেডারেশনের কোনো উপকমিটির সদস্য হওয়া মূলত সাংগঠনিক দায়িত্ব।

তাই কোনো ব্যক্তিকে গোলাবারুদের হিসাবের অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে হলে তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদন, সিদ্ধান্ত, হিসাব গোপন বা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে বলে মনে করছে বর্তমান কমিটি। শুধু কোনো ক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পরিচয় বা উপকমিটিতে সদস্যপদ থাকা দিয়ে অনিয়মে সম্পৃক্ততার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলেও তাদের দাবি।

বর্তমান নেতৃত্ব কি দায় এড়িয়ে যাচ্ছে?

গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় ২০২০ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্লাবগুলোর উত্তোলন ও ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, এসব ঘটনার বড় অংশই ঘটেছে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি বা বর্তমান সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব নেওয়ার আগে।

সাকিফ শামীম ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ঘোষিত নতুন অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নেন। ফলে অতীতের অনিয়মের সময় দায়িত্বে না থাকা একজন ব্যক্তিকে সেই সময়ের অনিয়মের জন্য সরাসরি দায়ী করা এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা—দুটি পৃথক বিষয় বলে মনে করছে বর্তমান নেতৃত্ব।

তাদের বক্তব্য, বর্তমান নেতৃত্ব তদন্তে অসহযোগিতা করলে, নথিপত্র গোপন করলে বা প্রমাণ নষ্টের সঙ্গে যুক্ত হলে দায় এড়ানোর অভিযোগের ভিত্তি তৈরি হতে পারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি বলে দাবি তাদের।

‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ছিল’, স্বীকার সাধারণ সম্পাদকের

বরং গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় অতীতে নজরদারির ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিফ শামীম।

তিনি বলেন,
“গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় অতীতে যে ঘাটতি ছিল, আমরা তা স্বীকার করি এবং সংশোধনে কাজ করছি। এই ঘাটতিকে কোনো একক ব্যক্তির ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা এবং সমাধান করা প্রয়োজন। আমরা এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তকে স্বাগত জানাই এবং তাতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে যাব।”

বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, অতীতের ঘাটতি স্বীকার করে তদন্তে সহযোগিতার কথা বলা হলে সেটিকে দায় এড়ানোর অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ কম। তাদের মতে, মূল বিষয় হওয়া উচিত নথিপত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অনিয়ম চিহ্নিত করা।

তদন্তেই মিলবে গোলাবারুদের হিসাবের প্রকৃত চিত্র

গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে হলে ক্লাবভিত্তিক নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছে বর্তমান কমিটি।

কোন ক্লাব কত পরিমাণ গোলাবারুদ উত্তোলন করেছে, কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে তা উত্তোলন করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছিল কি না, ক্লাবের স্টক রেজিস্টারে কী তথ্য রয়েছে, কত গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছে এবং কত অবশিষ্ট থাকার কথা—এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই করেই বের করা সম্ভব।

একই সঙ্গে কোন পর্যায়ে হিসাব যাচাই ও অনুমোদনের দায়িত্ব ছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

ফেডারেশনের বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য, অতীতের অনিয়ম থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা উচিত এবং দায়ী ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করা উচিত। তবে অভিযোগের সঙ্গে ব্যক্তিকে জড়ানোর ক্ষেত্রে অনুমান নয়, প্রয়োজন নির্দিষ্ট নথি ও প্রমাণ।

শেষ পর্যন্ত শুটিং ফেডারেশনের গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত অনিয়ম কতটা, কোথায় এবং কার সময়ে হয়েছে—তার উত্তর মিলবে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই।