রিপোর্টার : Mizanur Rahman Liton ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৫ – পাঁচটি প্রধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গিয়ে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন করেছে। বিতর্কিতভাবে কমিশন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে “পুলিশ সংস্কার কমিশন”– যা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মাঝে।
জাতীয় ঐক্যমত্য সনদের খসড়া তালিকায় পুলিশ সংস্কার বিষয়টি শুরুতে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এটি বাদ দেওয়া হয়। সিদ্ধান্তটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন পুলিশ সংস্কার ‘নির্বাহী আদেশ’ বা প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমেই বাস্তবায়নযোগ্য – ফলে আলাদা কমিশনের প্রয়োজন নেই।
জাতীয় ঐক্যমত্য কমিটির প্রশাসনিক অংশ থেকে জানানো হয়:
“পুলিশ সংস্কার এমন একটি বিষয় যা প্রয়োজনে নির্বাহী আদেশেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এটি নিয়ে আলাদা কমিশন গঠন করার প্রয়োজন নেই।”
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় সংশ্লিষ্ট মহল। বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সংস্কার একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা নির্বাহী আদেশের সীমাবদ্ধ কাঠামোয় নয়, বরং স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া উচিত।
পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, তারা “স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ সংস্কার কমিশন” গঠনের সুপারিশ বাদ যাওয়ায় হতাশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন:
“সংস্কার না হলে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যারা খুন, নির্যাতন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তারা বহাল তবিয়তে থেকে যাবে – এটা কি আমরা চাই?”
নাগরিক সমাজের নেতারাও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। মানবাধিকার কর্মী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশ সংস্কার না করে বিচারব্যবস্থা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত ব্যবহার এবং জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ সংস্কারের জন্য একটি স্বাধীন কমিশনের দাবি বারবার উঠেছে। অথচ তা বাস্তবায়নের বদলে নির্বাহী আদেশের নামে বিষয়টিকে পাশ কাটানো হচ্ছে – যা উদ্বেগজনক।
দাবি উঠছে: কমিশন পুনর্বহাল করতে হবে
সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংস্থা ও সাধারণ নাগরিকরা জাতীয় ঐক্যমত্য সনদে পুনরায় পুলিশ সংস্কার কমিশন অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সত্যিকারের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের ভিত্তি স্থাপন করতে হলে এই সংস্কার অনিবার্য।
সংক্ষেপে মূল বিষয়:
পুলিশ সংস্কার কমিশন বাদ পড়েছে ৫টি সংস্কার কমিশনের তালিকা থেকে
কোনো পূর্ব নোটিশ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত
প্রশাসন বলছে, এটি “নির্বাহী আদেশে” করা যাবে
তবে বিশ্লেষক ও পুলিশ সদস্যরা বলছেন, এটি হতে হবে স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে
দাবি উঠেছে – কমিশন পুনরায় গঠন করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে