প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২৬ , সকাল ১০:৩৭।। প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার , ১০ জুলাই ২০২৬ , রাত ০১:০২
রিপোর্টার : অনলfইন ডেস্ক:

সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: পঞ্চদশ সংশোধনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশে হাইকোর্টের রায় বহাল


রিপোর্টার : the investor

বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল হওয়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

৯ জুলাই সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের রায় বহাল থাকায় সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে। তবে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর এর বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৪টি বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা এবং গণভোটের বিধান বাতিল করা।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মোট তিনটি আপিল করা হয়। একটি আপিল করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি। পৃথক একটি আপিল করেন নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন। আরেকটি আপিল করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সবগুলো আপিলের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ একযোগে রায় ঘোষণা করেন।

২০১১ সালে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে—নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়; গণভোটের সাংবিধানিক বিধান বাতিল করা হয়;
জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এই চার মূলনীতি পুনর্বহাল করা হয়;
অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংবিধানিক বিধান যুক্ত করা হয়; সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে মোট ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়।

রায় ঘোষণার আগের দিন ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তাঁর মতে, এসব পরিবর্তনের কারণে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের এ রায় বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামোর ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা, গণভোটের ব্যবহার এবং সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আইনজ্ঞদের মতে, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোন কোন বিধান কীভাবে কার্যকর হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য সংসদ বা সরকারের কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক ইতিহাসে এ রায়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।