রিপোর্টার : the investor মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোর গুঞ্জন চলছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় ও দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনায় স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, পানি সম্পদ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম রয়েছে। আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।
এতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় শূন্য হলে সেখানে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আনা হতে পারে বলে সূত্রগুলোর দাবি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। তাঁর মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে সালাউদ্দিন আহমেদকে আনা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্তির প্রাক্কালে মন্ত্রিসভার কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে সরকার ও দলীয় সূত্রগুলোর দাবি। গত ছয় মাসে কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, এমন আলোচনা সরকার ও দলের ভেতরে রয়েছে। এ ছাড়া কিছু মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ইতোমধ্যে দু-একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ট্রল হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এসব কারণে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এমন আলোচনা সরকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফলে মন্ত্রিসভার ওই সদস্যদের কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বলে সূত্রগুলোর দাবি। পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা নিজেদের পক্ষে তৎপরতাও চালাচ্ছেন।
একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পাওয়ার আশায় বিএনপি ও শরিক দলের অনেক নেতা সিনিয়র মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। কে মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন, কোন কোন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হতে পারে—এসব জানার চেষ্টা চলছে।
আগ্রহী নেতারা সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা, দলীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং রাজনৈতিক অবস্থান সামনে আনছেন। এ প্রক্রিয়ায় কেউ কেউ বর্তমানে মন্ত্রিসভায় থাকা সদস্যদের অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গও টানছেন বলে জানা গেছে।