গালফ সিকিউরিটি সার্ভিস নামে একটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম খান স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের এক প্রভাবশালী শেখ পরিবারের সদস্য মঞ্জিলা ফারুকের প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও একচেটিয়া ব্যবসা করতেন। এ নিয়ে অতীত থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কের মুখে রয়েছে।
গালফ সিকিউরিটিজ এ রয়েছে কলঙ্কজনক অতীত যার ধারাবাহিকতায় এমডি স্বপন একের পর এক দুর্নীতির ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। খুজ দিয়ে জানা যায়- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের টেন্ডার নিয়ে -এবারও প্রশ্ন ১৫০টি উপজেলায় কম্পিউটার অপারেটর ও পিয়ন নিয়োগের আউটসোর্সিং টেন্ডারে গালফ সিকিউরিটি সার্ভিসের নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শর্ত পূরণকারী একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও গালফ সিকিউরিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটি পূর্বে CPTU-র কালো তালিকায় ছিল এবং সাবেক এমডির বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এত বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার তালিকায় এল, তার ব্যাখ্যা অস্পষ্ট।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বিগত সময়ে যশোরে চাকরি প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। গালফ সিকিউরিটির প্রতিনিধিরা সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই যুবকের কাছ থেকে আড়াই লাখ ও দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। জাল নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণার শিকার এই যুবকরা আদালতে মামলা করেছেন। তদন্ত এখন পিবিআইয়ের হাতে।
ওসমানী মেডিকেলে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ-সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও নথিপত্র যাচাই না করেই গালফ সিকিউরিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে বাদপড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের পুরোনো অনিয়ম, মামলা ও লাইসেন্সসংক্রান্ত অসামঞ্জস্য উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, সব নথিই যাচাই করা হয়েছে।
বরিশালে কর্মীদের বেতন বন্ধ -বরিশালের ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গালফ সিকিউরিটির মাধ্যমে কর্মরত ৬৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী টানা ১৬ মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। করোনাকালে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়নি। বাসাভাড়া না দিতে পারায় অনেকে উচ্ছেদের নোটিশও পেয়েছেন। সমস্যার সমাধান না পেয়ে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত- বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি নিয়োগে অনিয়ম, চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণা, টেন্ডারে অস্বচ্ছতা এবং কর্মীদের বেতন বন্ধ রাখার মতো অভিযোগ বারবার উঠায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যাপক তদন্ত জরুরি। সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত, এবং গালফ সিকিউরিটিকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আউটসোর্সিং নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।