• ঢাকা
  • বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬ , বিকাল ০৫:৩০
ব্রেকিং নিউজ
হোম / বাণিজ্য
রিপোর্টার : বিশেষ প্রতিনিধি:
সুপার এনামেল ক্যাবলস-এ শতশত কোটি টাকার ভ্যাঁট ফাকি!

সুপার এনামেল ক্যাবলস-এ শতশত কোটি টাকার ভ্যাঁট ফাকি!

প্রিন্ট ভিউ

সুপার এনামেল ওয়্যারকে এক নামে সুপার বলা হয়। বাংলাদেশে এই ক্যাবলসের মার্কেট কয়েক হাজার কোটি টাকার। ব্যাপক চাহিদার কারণে প্রায় প্রতিটা বড় ক্যাবলস কোম্পানি সুপার ওয়্যার বানায়। অন্যদিকে এসবের প্রায় সবাই ফ্যান, ট্রান্সমিটার, মটর উৎপাদনকারী কোম্পানি। পাশাপাশি অজ্ঞাত স্থানে নকল, মানহীন ঝুঁকিপূর্ণ সুপার ওয়্যার বানানোর কারখানা রয়েছে যারা ভ্যাট ট্যাক্স কিছুই দেয় না, নকল পণ্য বানায়।

সুপার ওয়্যারে অল্প পরিমাণ পণ্যের অনেক বেশী বিক্রয় মূল্য। যে কারণে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে বড় অঙ্কের মুনাফা লুট করা সহজ। বছরের পর বছর শতশত কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি পড়লেও রাজস্ব বিভাগ থেকে এরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অন্যদিকে নকল, নিম্নমানের সুপার ওয়ারের কারণে প্রতিনিয়ত শর্টসার্কিট, অগ্নীকান্ডে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। 

এসব কারখানায় ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি হচ্ছে তিন ভাবে। প্রথমত র’ম্যাটাারিয়ালস আমদানী করার ক্ষেত্রে মিস ডিক্লারেশন। গোজামিল রফতানি দেখিয়ে শুল্ক বিহীন কাঁচামাল কপার আমদানি। দ্বিতীয়ত: স্থানীয় মার্কেট থেকে স্ক্রাপ কিনে এর ভ্যাট না দিয়ে সুপার এনামেল ওয়্যার তৈরি ও বিপণন। তৃতীয়ত: লোহা, এলুমনিয়াম, কার্বন প্রভৃতি মিশ্রিত ঝুঁকিপূর্ণ কপারের কাঁচামাল দিয়ে ভুইফোড় অজ্ঞাত কারখানায় তৈরি নকল, বিপদজনক সুপার ওয়্যার যারা বানাচ্ছে তারা সাধারণত ভ্যাট ট্যাক্স কিছুই দেয় না।

মার্কেট পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ভ্যাট আদায়ে তৈরি হয়েছে অসম চিত্র। যারা সঠিক ভ্যাট/শুল্ক দিচ্ছে তারা দিয়ে দিয়ে রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। যারা ফাঁকি দিচ্ছে তারা মার্কেট দখল করছে। অভিজ্ঞ মহল বলছেন, সুপার এনামেল ওয়্যার মার্কেটের দ্বিতীয় প্রধান উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানি রংপুর মেটাল ইন্ডাষ্ট্রিজ। অভিযোগ রয়েছে ভ্যাট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি এই পণ্যের কাঁচামাল কপার আমদানী দেখাচ্ছে দু’একশ টন। প্রথম অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠান বিআরবি ক্যাবলস কোম্পানি ভ্যাট দিচ্ছে কয়েক হাজার টন কপার কাঁচামাল আমদানীর। অথচ দুই প্রতিষ্ঠানের মার্কেটের অবস্থান প্রায় কাছাকাছি। সে অনুপাতে রংপুর মেটালের কাচাঁমাল আমদানী হবার কথা প্রায় পাঁচ ছয় হাজার টন। লোকাল মার্কেটের স্ক্রাব কাঁচামাল দিয়ে সুপার ওয়্যার বানালেও এর উপর ভ্যাট প্রযোজ্য রয়েছে। যার পরিমাণ হবার কথা বিশাল অঙ্কের। অন্যদিকে এদের ফ্যান, মটর, ট্রান্সমিটারে যে বিশাল পরিমাণ সুপার ওয়্যার ব্যবহার হয় তা ক্যালকুলেশন করলেই ভ্যাটের অঙ্ক বের হয়। এদের মত রয়েছে এমইপি গ্রুপ, এসকিউ গ্রুপ, ওয়ালটন গ্রুপ, যমুনা গ্রুপ প্রভৃতি। যারা নিজেরা সুপার এনামেল ওয়্যার উৎপাদন বিপণন করার পাশাপাশি এসব দিয়ে ফ্যান, মটর, ট্রান্সমিটার বানাচ্ছে। সেসবেও ভ্যাট ক্যালকুলেশন হবার কথা।

লোকাল স্ক্রাপ ও আমদানীকৃত কাঁচামালের দাম ও এসব দিয়ে বানানো পণ্য সুপার ওয়্যারের দাম পর্যবেক্ষণ করলেই ভ্যাট ফাঁকি, পণ্যের মানের একটা চিত্র পাওয়া যায়। যেমন-আমদানী ক্ষেত্রে -এ গ্রেড কপারের মূল্য প্রতি কেজি ১৪০০ টাকা, লোকাল কপার স্ক্রাব প্রতি কেজি ১২০০ টাকা। সাথে আমদানী শুল্ক/ভ্যাট, উৎপাদন খরচ, ওয়েস্টেজ বাদ দিয়ে এবং প্রফিট ও ভ্যাট যুক্ত হবার পর প্রতি কেজি সুপার ওয়্যারের দাম আসার কথা অনেক টাকা। মার্কেট প্রাইজ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে রংপুর মেটালের বিজলী ব্রান্ডের সুপার ওয়ার বিক্রয় মূল্য ১৪৮৩ টাকা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গাজী ব্রান্ডের ১৮৪৪ টাকা, ইন্ডিয়া বাংলাদেশ জয়েনভেঞ্চার আরআর ব্রান্ড ১৭৫০টাকা, এসকিউ ব্রান্ড ১৩৪৯ টাকা, যমুনা গ্রুপের যমুনা ব্রান্ড ১৩৪৫ টাকা, মেঘনা স্টার গ্রুপের মেঘনা ব্রান্ড ১৪৫০টাকা, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স এর বিটি ব্রান্ড ১৩০০টাকা, এএস ব্রান্ড ১৩০০ টাকা, এসবি ব্রান্ড ১২৯৫ টাকা, বাংলা এশিয়া ব্রান্ড ১৩১৫ টাকা, বিআরবি ১৭৮৩ টাকা।

যেসব কোম্পানি শুল্ক/ভ্যাট সহ কাঁচামালের দামের সমান ফিনিশড গুডস সুপার এনামেল ওয়্যার বিক্রি করছে রাজস্ব বিভাগ এদের ভ্যাট ফাঁকি ক্যালকুলেশন বের করে ফেলতে পারে। ভ্যাট আদায়ে পুরো কর্পোরেট গ্রুপ অনুমান না করে আলাদা আলাদা করে কোম্পানির ভ্যাট ক্যালকুলেশন করলেই কারচুপির সঠিক চিত্র বের হয়ে আসবে। অন্যদিকে মিস ডিক্লারেশন দিয়ে আমদানী করা কাঁচামালের বিষয়ে তদন্ত করলেই শুল্ক কারচুপির তথ্যও বেরিয়ে আসবে।  

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আরএফএল গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরএন পাল বলেন, বিএসটিআই সহ সরকারের সংশ্লিষ্ঠ বিভাগগুলো নিয়মিত তদন্ত, অভিযান করলে এই সেক্টরে মান বজায় থাকবে এবং প্রয়োজনীয় শৃংখলা ফিরে আসবে।    


বাণিজ্য

আরও পড়ুন