নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্যা ইনভেস্টোর
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন-জীবন নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক খালেদ মাহিউদ্দিন সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিও আলোচনায় প্রশ্ন তুলেছেন, “তারেক রহমান কীভাবে লন্ডনে থাকেন?”—এটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ বিশিষ্ট সাংবাদিক মিনার রশিদ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তারেক রহমান লন্ডনে কোনও রাজকীয় প্রাসাদে বাস করছেন না, বরং পরিবারের সঙ্গে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মতো সাধারণ জীবনযাপন করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শেখ রেহানা দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকছেন, কিংবা সায়মা ওয়াজেদ কানাডায় থেকেছেন—সেই জীবনযাপন নিয়ে কখনও প্রশ্ন তোলা হয়নি কেন?”
‘রাজনীতি থেকে পালিয়ে যাননি, নির্বাসিত’ — দাবি বিএনপির
২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তারের পর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। সেখানেই তিনি পরিবারসহ অবস্থান করছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি রাজনীতি থেকে পালিয়ে যাননি, বরং দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়ায় তিনি রাজনৈতিক নির্বাসনে আছেন।
‘নিজস্ব ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পদ’
মিনার রশিদ তাঁর পোস্টে দাবি করেন, তারেক রহমানের কিছু নিজস্ব ব্যবসা ছিল এবং তাঁর পিতামাতার রাজনৈতিক জীবনের বৈধ আয় থেকেই কিছু পারিবারিক সম্পদ এসেছে।
এছাড়া তাঁর স্ত্রী একজন হাইলি কোয়ালিফাইড চিকিৎসক এবং কন্যা একজন ব্যারিস্টার। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের পেশাগত পরিচয় ও কাজের ধরন প্রকাশ করা হচ্ছে না।
‘প্রবাসী সহায়তা অবৈধ নয়’
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বলেছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বহু বিএনপি-ঘনিষ্ঠ প্রবাসী ব্যবসায়ী তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করেন।
লন্ডনসহ ইউকে জুড়ে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বহু রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসার মালিক বিএনপি-সমর্থক। তাঁদের অনেকেই দল ও নেতার প্রতি আস্থা থেকে এই সহায়তা করে থাকেন।
বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে প্রবাসীরা সংহতি জানালে সেটা বেআইনি নয়। বরং এটি গণতন্ত্রে স্বাভাবিক রাজনৈতিক সম্পর্কের অংশ।”
বাসে চলাফেরার ছবি নিয়ে বিতর্ক
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানের বাসে চলাফেরা করার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি বিএনপির কিছু অনলাইন পেইজ থেকে প্রকাশিত হয়।
তবে মিনার রশিদের মতে, এসব ছবি ‘পলিটিক্যাল ডিসপ্লে’ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নেতিবাচক ব্যাখ্যার জন্ম দিতে পারে।
তাঁর ভাষায়,
“এই কিছিমের ছবি আমরা শেখ হাসিনা বা শেখ রেহানাকে নিয়েও দেখেছি। এমন ছবি দলীয় পেইজে না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ছড়ালে ভালো হতো।”
একই প্রশ্ন অন্যদের জন্য নয় কেন?
তারেক রহমানের জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, একই ধরনের প্রশ্ন কেন শেখ রেহানা বা সায়মা ওয়াজেদের জীবনযাপন নিয়ে তোলা হয় না—এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
সাংবাদিক মিনার রশিদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রশ্নবাণ ছোড়া হচ্ছে।
উপসংহার
তারেক রহমানের লন্ডন-জীবনকে ঘিরে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই প্রশ্নের বিপরীতে পাল্টা প্রশ্নও জোরালোভাবে উঠে এসেছে—রাজনৈতিক নেতাদের জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে কি একরকম মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে?
রাজনীতিতে স্বচ্ছতা যেমন জরুরি, তেমনি প্রশ্ন তোলার ন্যায্যতাও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন—মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।