• ঢাকা
  • শুক্রবার , ৯ অক্টোবর ২০২৬ , ভোর ০৪:০১
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ
রিপোর্টার : ময়মনসিংহ: সংবাদদাতা
ময়মনসিংহে ইজারা পেয়েও বালুমহাল দখলহীন ঠিকাদার, রাতের আঁধারে লাখ লাখ টাকার অবৈধ বালু বিক্রি

ময়মনসিংহে ইজারা পেয়েও বালুমহাল দখলহীন ঠিকাদার, রাতের আঁধারে লাখ লাখ টাকার অবৈধ বালু বিক্রি

প্রিন্ট ভিউ

ময়মনসিংহে বালু উত্তোলন ও বিক্রি নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম মেনে প্রায় ১ কোটি টাকায় ইজারা পেয়েও স্থানীয় সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী চক্রের দাপটে ঘাট বুঝে পাচ্ছেন না প্রকৃত ইজারাদার। উল্টো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা অসৎ কর্মকর্তাদের সহায়তায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু বিক্রি করে সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে সাবেক ইজারাদার ও সন্ত্রাসী চক্র।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বাংলা চলতি সনের ২৯ আশ্বিন ১৪৩১ বালুমহাল (চর মাদাকালি মড়াখোলা প্যাকেজ-০৪) ইজারার জন্য ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক দরপত্র আহ্বান করেন। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পান 'তন্ময় এন্টারপ্রাইজ'-এর স্বত্বাধিকারী ও বালিপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. গোলাম রব্বানী। ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ প্রায় ১ কোটি টাকার ইজারা মূল্যের মধ্যে ইতোমধ্যে ৮০ লাখ টাকা সরকারি কোষাাগারে জমা দিয়েছেন তিনি। বকেয়া ২০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার জন্য সময় আবেদন করেছেন ইজারাদার।

তবে ইজারাদারের অভিযোগ, পহেলা বৈশাখ থেকে তাঁকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য ক্ষমতার জোড়ে সাবেক ইজারাদার ও বিগত সরকারের দোসররা এতে বাধা সৃষ্টি করছে। সাবেক ইজারাদাররা ইজারা না পেয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এসেছে, অথচ তারাই পুরো বালিপাড়া জুড়ে অবৈধভাবে পাহাড়সম বালু মজুদ করে রেখেছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও সাবেক ইজারাদারের লোকজন ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকে করে শত শত সিএফটি বালু পাচার করছে। পূর্বে যেখানে প্রতি ট্রাক বালু বিক্রি হতো ৫ হাজার টাকায়, বর্তমানে তা ট্রাকপ্রতি ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

বাস্তবচিত্রে দেখা গেছে, চর মাদাকালি মড়াখোলা প্যাকেজ-০৪-এর ঘাটে সন্ত্রাসী চক্র ঘাট জবরদখল করে রেখেছে। মুচীপাড়া ঘাটে বাবুল মিয়া, সিদ্দিকুল ও আনোয়ার মেম্বার কোনো প্রকার ডাক ছাড়াই জোরপূর্বক বালু বিক্রি করছেন। একইভাবে মড়াখোলা ঘাটে হারুন, এলডিপি খালেক, কামালউদ্দীন, বিপ্লব, আলমগীর, আলাল মুন্সী, সহিবুর ও কোকা মুন্সী গং গায়ের জোরে প্রতিদিন লাখ লাখ ঘনফুট বালু অবৈধ উপায়ে উত্তোলন ও বিক্রি করছে।

এদিকে, তন্ময় এন্টারপ্রাইজ এখনও বালুমহালের দখল না পেলেও সম্প্রতি ডেপুটি কালেক্টর অব রেভিনিউ (ডিসিআর) হাসান আবদুল্লাহ আল মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বকেয়া ২০ লাখ টাকা দ্রুত পরিশোধের জন্য স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম রব্বানীকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলাম রব্বানী বলেন, "সরকারকে রাজস্ব দিয়েও আমি মহা বিপদে পড়েছি। এখন বালু উত্তোলনের প্রধান মৌসুম। এই মুহূর্তে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করতে না পারলে আমার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলের আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ খাত চরম স্থবিরতার মুখে পড়বে।" তিনি জানান, দ্রুত বালুমহাল বুঝে পেতে তিনি দিনরাত প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও সাবেক ইজারাদারের সন্ত্রাসীরা এলাকাকে 'মগের মুল্লুক' বানিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি ও রাজস্ব চুরি চালিয়ে যাচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, "অভিযোগ ও বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবগত। আইনানুযায়ী অতিশীঘ্রই এ ব্যাপারে কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ক্রাইম

আরও পড়ুন